ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ওয়াসকুরুনি নামে দুই বছরের এক শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যা করার অভিযোগ ওঠেছে সৎ মা ও বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই অভিযুক্ত সৎ মা আকলিমা ও বাবা আব্দুল কাদিরকে আটক করেছে পুলিশ।
৮ অক্টোবর-২০২৬ ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বীরপুর দত্তবাড়ি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বীরপুর দত্তবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল কাদিরের বাড়ি উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বীরপুর দত্তবাড়ি গ্রামে। ২০১৫ সালে আব্দুল কাদির উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের বড় কালীহর গ্রামের আব্দুল হাকিমের মেয়ে মোছাঃ শেফালিকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের জয়নাল আবেদীন (৮) ও ওয়াসকুরুনি (২) নামের দুই জন সন্তান রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে আইনিভাবে আব্দুল কাদিরের সাথে শেফালীর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।
বিবাহ বিচ্ছেদের এক সপ্তাহ পর আব্দুল কাদির বোকাইনগর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের মেয়ে আকলিমাকে বিয়ে করেন। এরপর তিনি দুই সন্তান জয়নাল আবেদীন (৮) ও ওয়াসকুরুনি (২) ও দ্বিতয়ী স্ত্রী আকলিমাকে নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করতো।
গত মঙ্গলবার দুপুরে আকলিমা শিশু ওয়াসকুরুনিকে ডিম খাওয়ায় ও পানি পান করায়। এরপর শিশুটিকে গোসল করিয়ে ঘুম পাড়াতে বিছানায় নিয়ে গেলে শিশুটি কাশতে শুরু করে। কাশির শব্দ শোনে ঘরে ছুটে এসে দাদী আছিয়া আক্তার শিশুটির মুখে বিষের গন্ধ পায় পরে পরিবারের লোকজন দ্রুত শিশুটিকে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
এদিকে গত বুধবার নিহত ওয়াসকুরনির মা মোছাঃ শেফালী আক্তার বাদী হয়ে প্রাক্তন স্বামী আব্দুল কাদির ও তার স্ত্রী আকলিমার বিরুদ্ধে বিষ খাইয়ে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বীরপুর দত্তবাড়ি গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত কাদির ও আকলিমাকে আটক করেন।
শিশুর মা মোছাঃ শেফালী বলেন, আকলিমার সঙ্গে পরকীয়ার কারণেই আমাকে তালাক দিয়ে আকলিমাকে বিয়ে করে আব্দুল কাদির। গত ৬ অক্টোবর-২০২৬ আমার ছোট ছেলেকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে কাদির ও তার স্ত্রী আকলিমা। আমাকে না জানিয়ে সৎ মাকে আসল মা সাজিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেলের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসে। আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
আব্দুল কাদির বলেন, ঘটনার দিন আমি ছেলে ওয়াসকুরুনিকে ভালো দেখে খড় আনতে ঢালিয়া বিলে যাই। ঢালিয়া বিলে থাকাবস্থায় আমি খবর শুনি ছেলে বিষ খাইছে। পরে এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং হাসপাতালেই ছেলে মৃত্যু বরণ করে।
নিহত শিশুর দাদি আছিয়া খাতুন বলেন, ঘটনার দিন নাতির কাশি শুনে ঘরে ঢুকে দেখেন নাতিকে নিয়ে তার সৎ মা শুয়ে আছে। তখন তিনি নাতিকে সেখান থেকে টান দিয়ে বাইর করে দেখেন মুখে বিষের গন্ধ করছে। পরে তার চাচারা বাড়ি থেকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে নাতি মারা যায়।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় শিশু ওয়াসকুরুনির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করানো হয়েছে। শিশুর মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে।