গঙ্গাচড়ায় এলজিইডির নারী কর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, স্ট্যান্ড রিলিজ উপসহকারী প্রকৌশলী

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

Date: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
news-banner
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. লুৎফর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। গত ১ নভেম্বর জারি করা আদেশে তাঁকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে বগুড়ার মোকামতলায় যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে তিনি সেখানে যোগদান করেছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জেসমিন আক্তার।

অন্যদিকে, একই সময়ে গঙ্গাচড়ায় এলজিইডির পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্পের (আরআরএমপি) আওতায় নারী কর্মী নির্বাচনের লটারি আয়োজনের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে লটারি আয়োজন, কোথাও জনপ্রতিনিধিদের আপত্তিতে লটারি স্থগিত এবং কোথাও আপত্তির মধ্যেই লটারি সম্পন্ন করার ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নারী কর্মী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ১০ জন করে নারী কর্মী নির্বাচনের জন্য লটারি আয়োজনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৬ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নে লটারি আয়োজনের তারিখ উল্লেখ রয়েছে। এতে দেখা যায়, কয়েকটি ইউনিয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক লটারি অনুষ্ঠিত হলেও অন্য ইউনিয়নে পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের একত্র করে লটারি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৩ নভেম্বর পর্যন্ত গঙ্গাচড়ার ছয়টি ইউনিয়নে নারী কর্মী নির্বাচনের লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এসব লটারি আয়োজনের সময় উপজেলা প্রকৌশলী জয়া স্যানাল ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর গজঘণ্টা ইউনিয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক লটারি অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, ১ নভেম্বর সকালে আলমবিদিতর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের একসঙ্গে নিয়ে লটারি আয়োজনের উদ্যোগ নেন এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে উপস্থিত ইউপি সদস্যদের আপত্তির মুখে লটারি না করেই ফিরে যান তাঁরা।

এ সময় উপসহকারী প্রকৌশলী মামুন মিয়া, কমিউনিটি অর্গানাইজার মো. ফিরোজ মামুন এবং উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. পারভেজ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

একই দিন বিকেলে কোলকোন্দ ইউনিয়নে পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের একত্র করে লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ইউপি সদস্যদের আপত্তি থাকলেও তা উপেক্ষা করে লটারি সম্পন্ন করেন এলজিইডির কর্মকর্তারা। একই দিনে এক ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিদের আপত্তিতে লটারি বন্ধ এবং অন্য ইউনিয়নে আপত্তির মধ্যেই লটারি সম্পন্ন করার ঘটনায় ইউনিয়নভেদে নিয়োগপ্রক্রিয়ার ভিন্নতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আলমবিদিতর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম বলেন, একই প্রকল্পের আওতায় একেক ইউনিয়নে একেক পদ্ধতিতে লটারি আয়োজন করা হচ্ছে। এক ইউনিয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক, অন্য ইউনিয়নে পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের একসঙ্গে নিয়ে লটারি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে আবেদনকারীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব ইউনিয়নে একই নিয়ম অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে কর্মী নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।

কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির লাল বলেন, তাঁদের ইউনিয়নে ইউপি সদস্যদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও পুরো ইউনিয়নের আবেদনকারীদের নিয়ে লটারি করা হয়েছে। অথচ অন্য ইউনিয়নে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। একই প্রকল্পে ইউনিয়নভেদে ভিন্ন নিয়ম কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি কর্মী নির্বাচনে সবার জন্য সমান নিয়ম ও সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এদিকে, নারী কর্মী নিয়োগের লটারি আয়োজনের পদ্ধতি নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের আপত্তি ও বিতর্কের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার স্ট্যান্ড রিলিজের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তাঁর স্ট্যান্ড রিলিজের আদেশে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে, নারী কর্মী নিয়োগের লটারি নিয়ে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জয়া স্যানালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্ট্যান্ড রিলিজ কেন হয়েছে, তা আমি জানি না। হঠাৎ করেই আদেশ এসেছে। তিনি ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী লুৎফর রহমানের বদলির বিষয়টি জেনেছি। তিনি ইতিমধ্যে বগুড়ার মোকামতলায় যোগদান করেছেন।

Leave Your Comments