নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ নেতাদের নিয়ে ভোট কেনার জন্য টাকা বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে সাধারণ জনগনের প্রতিরোধকে মব বলে অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদে এবং প্রশাসনের নির্লিপ্ততার বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী) সৈয়দপুর প্রেসক্লাবে বেলা ১ টায় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে এই আয়োজনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৈয়দপুর শহর শাখার আমীর শরফুদ্দিন খান।
শহর আমীর মাওলানা ওয়াজেদ আলীর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে সদ্য যোগদানকারী উপজেলা জাপার সাবেক সভাপতি ঠিকাদার জয়নাল আবেদীন, এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র নেতা আনোয়ারুল ইসলাম মানিক, পৌর আহ্বায়ক জাবেদ আত্তারী ও সাংবাদিক জাকির হোসেন প্রমুখ। এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এ্যাড. এস এম ওবায়দুর রহমান , সাধারন সম্পাদক শাহিন আকতার ও প্রচার সম্পাদক আবু সরকার। এছাড়া বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারী) রাত ১০ টায় সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া শহীদ বদিউজ্জামান সড়কে জাপা প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে আওয়ামীলীগ নেতাদের নিয়ে ভোট কেনার জন্য টাকা বিতরণ করা হয়। এখবর পেয়ে এলাকার কতিপয় যুবক প্রতিবাদ জানালে সেখানে অবস্থানকৃত লোকজন দ্রুত মোটর সাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। পরে ভেতর থেকে অফিসের গেট বন্ধ করে দেয়া হয়।
এমতাবস্থায় লোকজন বিষয়টি প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের জানায়। খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে উপস্থিত লোকজন অভিযোগের বিষয়ে কথা বলাকালিন সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার মেহদী ইমাম মোবাইল কোর্টের গাড়ি ও পুলিশসহ সেখানে আসেন। কিন্তু তিনি ওই অফিসের গেটে না থেমে সাইরেন বাজিয়ে চলে যেতে থাকেন। পরে লোকজন তাকে থামিয়ে টাকা বিতরণের কথা জানান এবং ভেতরে আওয়ামীলীগ নেতাসহ বিপুল পরিমাণ টাকা আছে উল্লেখ করে অফিসটি তল্লাশির দাবি জানান। কিন্তু ম্যাজিষ্ট্রেট গাড়িতেই অবস্থান করার সুযোগে গেট খুলে বাকি লোকজনও দ্রুত সটকে পড়ে। তাছাড়া পিছন দিক দিয়েও টাকা সরানোসহ লোকজন পালিয়ে যায়।
পরে উপস্থিতদের চাপে ম্যাজিষ্ট্রেট গাড়ি থেকে নেমে অফিসের গেলে অবস্থান নেন। দীর্ঘ প্রায় ২ ঘন্টায়ও তিনি সেই গেট খোলার কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় লোকজন ভুয়া ভূয়া শ্লোগান শুরু করলে সংবাদকর্মীরা তা লাইভ করেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ মানুষ সেখানে জড়ো হয়। কিন্তু তারপরও গেট খোলা হয়নি এবং প্রশাসনও জোড়ালো কোন উদ্যোগ নেয়নি। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মেহদী ইমাম সাংবাদিকদের জানান, লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাপা প্রার্থীর অফিসে তল্লাশী চালানো হয়েছে। এখানে কোন ব্যক্তি বা টাকা পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করায় প্রার্থীর ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
ঘটনার সময় কিশোরগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গ্রেনেড বাবু আসলে ৩৫ হাজার টাকাসহ পুলিশের হাতে তুলে দিলেও তাকে পড়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এবিষয়ে জাপা প্রার্থী আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান আমার নির্বাচনী অফিসে মব সৃষ্টি করে হামলা করা হয়েছে।