মোরেলগঞ্জে রাতের বেলা চরম লোডশেডিং: শিক্ষার্থী ও অসুস্থদের নাভিশ্বাস, স্থায়ী সমাধানের দাবি

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

Date: বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
news-banner
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গত বেশ কয়েকদিন ধরে রাতের বেলা তীব্র ও অঘোষিত লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ৪নং দৈবজ্ঞহাটি এবং ৩নং পুটিখালি ইউনিয়নসহ উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় রাত নামলেই দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। তীব্র গরমে রাতের পর রাত বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী এবং রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের বেলা বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও রহস্যজনকভাবে ঠিক রাতের বেলাতেই শুরু হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং। কোনো পূর্ব ঘোষণা বা যৌক্তিক কারণ ছাড়াই রাতের এই বিদ্যুৎ গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
​বিপর্যস্ত শিক্ষা খাত:
ভুক্তভোগীরা জানান, বর্তমান তীব্র গরমে রাতের বেলা বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা থাকলেও লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষক আক্ষেপ করে জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়া না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সবার একটাই উত্তর থাকে— "রাতে বিদ্যুৎ ছিল না।" শিক্ষক সমাজের আশঙ্কা, এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলমান থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের স্থবিরতা আসবে এবং আগামীতে তাদের পরীক্ষার ফলাফলে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
​স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতা:
এদিকে তীব্র গরমে রাতে ঘুমাতে না পেরে শিশু এবং বয়স্করা প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধির পাশাপাশি পুরো এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় এলাকায় চুরি ও ডাকাতির আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় জননিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে।
​সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি জোকা বাজার শহিদ মার্কেটে:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৪নং দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নের জোকা বাজার ও শহিদ মার্কেট এলাকার বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন চরম মাত্রায় অসহনীয় রূপ নিয়েছে। সেখানকার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, রাতের এই অকারণ লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে এবং প্রতিনিয়ত ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
​অতিরিক্ত মেগাওয়াট বরাদ্দের দাবি সুধী সমাজের:
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, নিয়মিত শতভাগ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরও কেন তাদের রাতের পর রাত এই অমানবিক ভোগান্তি পোহাতে হবে? কোনো কারিগরি ত্রুটি বা যৌক্তিক কারণ থাকলে কর্তৃপক্ষ কেন তা আগে থেকে গ্রাহকদের জানাচ্ছে না?
​এ বিষয়ে স্থানীয় সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মোরেলগঞ্জ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম একটি উপজেলা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একটি সাধারণ বা ছোট উপজেলার জন্য যে পরিমাণ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়, মোরেলগঞ্জেও সেই একই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ঘাটতি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। মোরেলগঞ্জের আয়তন ও গ্রাহক সংখ্যা বিবেচনা করে এখানে অনতিবিলম্বে অতিরিক্ত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান তারা।
​মোরেলগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ এই অকারণ ও অঘোষিত লোডশেডিংয়ের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অনতিবিলম্বে রাতের বেলা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং এই জনদুর্ভোগের স্থায়ী প্রতিকার চেয়ে বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave Your Comments