গঙ্গাচড়ায় বন্যার পানিতে শিশুর মৃত্যু, উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা প্রধান

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

Date: মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬
news-banner
তিস্তার উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী  ঢলের সৃষ্ট বন্যার পানিতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নে নাহিদ (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই পরিবারের দুই সন্তান ৫  বছরের ব্যবধানে পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার পর নিহত শিশুর পরিবারে সহোযোগীতা করেছেন  উপজেলা প্রশাসন।

 জানা যায়, গত সোমবার দুপুরের দিকে বাড়ির আশপাশে খেলতে বের হয় নাহিদ। পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছু সময় পর তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলে স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের একপর্যায়ে বিকেল প্রায় ৪টার দিকে বন্যার পানিতে ভেসে থাকা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, শিশুটির বাবা মেনাজুল কর্মসূত্রে কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন। মা নাজমা বাড়িতেই ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বন্যার পানিতে পড়ে যায় নাহিদ।

এটি পরিবারটির জন্য দ্বিতীয় বড় শোকের ঘটনা। স্থানীয়রা জানান, ৫  বছর আগে লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের বাগেরহাট আবাসন এলাকায় পানিতে ডুবে মারা যায় নাহিদের বড় ভাই নাজমুল। একের পর এক এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবারটিতে নেমে এসেছে গভীর শোক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বন্যার কারণে এলাকার অনেক মানুষ এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নাহিদের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।

লক্ষ্মীটারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় বন্যা ও খোলা জলাশয়ের কারণে শিশুদের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ সময় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার  উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিহত শিশুর পরিবারের হাতে ২০ হাজার টাকার সহায়তার চেক, চাল, ডাল লবণ তেল চিনি,মসলা, লুডুশসহ ১৪ প্রকার শুকনা খাবারের প্যাকেট পরিবারের  তুলে দেন 
। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার, এসময,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজীবুল করিম, লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার  শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বন্যা পরিস্থিতিতে শিশুদের প্রতি অধিক নজরদারী শিশুদের রাখার পরামর্শ প্রদান করে।

স্থানীয়দের মতে, তিস্তা তীরবর্তী বন্যাপ্রবণ এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মৌসুমি নজরদারি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

Leave Your Comments