রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে স্বতন্ত্র ও সর্বদলীয় জনতার প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী, লেখক ও রংপুর জেলা জজশিপের অ্যাডভোকেট কমিশনার অ্যাডভোকেট মোঃ ফারুক হাসান। "লোভ ও অহংকারমুক্ত" রংপুর মহানগরী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই তার নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রস্তুতি শুরু করেছেন। অ্যাডভোকেট ফারুক হাসান রংপুর আইন অঙ্গন ও সামাজিক মহলে এক পরিচিত মুখ। তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতি এবং রংপুর আইনজীবী সমিতির একজন সম্মানিত সদস্য। শিক্ষাজীবনে তিনি বুড়িরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা শুরু করেন। এরপর রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি (১৯৯০), জলঢাকা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি (১৯৯২) এবং পরবর্তী সময়ে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে বি.কম ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি রংপুর আইন কলেজ থেকে এলএলবি এবং কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ছাত্রাবস্থায় ৩য় শ্রেণী থেকেই দাদা ও মামার হাত ধরে রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি হয় এবং রংপুর সরকারি কলেজে পড়াকালীন তিনি ‘রংপুর সরকারি কলেজ ডিবেট ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করেন। পেশাগত জীবনে বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার অধিকারী অ্যাডভোকেট ফারুক হাসান বাংলাদেশ বন বিভাগে দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর (২৯ জুন, ১৯৯৬ থেকে ৯ জানুয়ারি, ২০১৪) ফরেস্টার পদে সুনামের সাথে কর্মরত ছিলেন। চাকরিজীবনে তিনি সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ ৩টি অভয়ারণ্যের অন্তর্গত ৫টি কেন্দ্রে ওসির দায়িত্ব পালনসহ সুন্দরবনের বনজ ও বন্যপ্রাণী সম্পদ রক্ষায় সাহসী ভূমিকা রাখেন। এর মধ্যে পূর্ব অভয়ারণ্যের সুপ্তি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর সাথে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী একান্ত বৈঠকে সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। এছাড়া ১৯৯৯ সালে দক্ষিণ অভয়ারণ্যের নীলকমল (হিরণ পয়েন্ট) কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী কর্তৃক ইউনেস্কো (UNESCO) বিশ্ব ঐতিহ্য ফলক উন্মোচনে বিশেষ দায়িত্ব পালন করেন এবং খুলনা অঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারসহ অন্য সকল সন্ত্রাসীদের দমনে এবং ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে বনের রাজা ওসমান গণির আটকে সম্পৃক্ত ছিলেন।চাকরির পাশাপাশি সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সাথেও তার গভীর সম্পৃক্ততা ছিল। ছাত্রাবস্থায় বিটিভির মানবাধিকার বিষয়ক তৎকালীন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘দৃষ্টিকোণ’ এবং সাপ্তাহিক ‘সপ্তাহের ডায়েরী’ পত্রিকার উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া আইনপেশায় নিয়োজিত থাকাকালীন ছদ্মনামে গল্প লিখে তিনি ‘মেরিল আদরে গড়া ভবিষ্যৎ প্রোগ্রাম-২০১২’-তে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ১০ লক্ষ টাকার শিক্ষা বীমা অর্জন করেন। পরিবারিকভাবে তিনি রংপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তার মাতা মরহুমা মিসেস ফাতেমা জেসমিন গজঘণ্টা ইউনিয়নের তিস্তা পাড়ের ছালাপাক গ্রামের শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন, যিনি বুড়িরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। পিতা মরহুম এস আর মোঃ হামিদুল ইসলাম একই ইউনিয়নের রাজবল্লভ গ্রামের সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী জসীমউদ্দিন মণ্ডলের নাতি। পিতা-মাতা উভয়েই গজঘণ্টা হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাস করে পরবর্তী সময়ে রংপুর শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। বর্তমানে অ্যাডভোকেট ফারুক হাসানের একমাত্র ছেলে ফাহিম বিন হাসান একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। আসন্ন রসিক নির্বাচন প্রসঙ্গে বুড়িরহাটের (ওয়ার্ড নং ৬, রসিক, পরশুরাম, রংপুর) স্থায়ী বাসিন্দা অ্যাডভোকেট ফারুক হাসান বলেন, "আল্লাহ আমাকে লোভ আর অহংকার থেকে যেন দূরে রাখেন। আমি আমাদের প্রাণপ্রিয় রংপুর মহানগরীকে স্বতন্ত্রভাবে, সর্বদলীয় জনতার মেয়র হিসেবে সুন্দর করে সাজাতে চাই।"