রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের বেতগাড়ী শাহ পাড়া বাস স্ট্যান্ড হতে বানিয়াপাড়া পাকা মসজিদ পর্যন্ত
এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও বড়বিল ইউনিয়নের উত্তর পানাপুকুর বিডিআর পাড় এলাকায় এইচবিবি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, পরিমাপে ঘাটতি এবং তদারকির দুর্বলতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের বাধার মুখে একপর্যায়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার কাজে একাধিক ভাটার নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পে নির্ধারিত ৬ ইঞ্চি ভিটি বালুর পরিবর্তে প্রায় ৩ হইতে ৪ ইঞ্চি ভিটি বালুব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইকবাল ট্রেডার্স, নিউ সেনপাড়া, রংপুর–এর স্বত্বাধিকারী মো. কামাল হোসেনের কাছে ইটের ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, বর্তমানে ব্যবহৃত ইটের কোনো টেস্ট রিপোর্ট তার কাছে নেই। তিনি বলেন, রিপোর্ট পরে দেওয়া হবে। তবে বালু কম দেওয়ার অভিযোগে কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে প্রকল্পের দায়িত্বশীল এক (ঠিকাদারের ) প্রতিনিধি মিলন বলেন, এ সময় এর চেয়ে ভালো ইট পাওয়া যায় না, এগুলোই ভালো ইট।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আওতায় বাস্তবায়িত এইচবিবি-ডাব্লিউডি-৪১৩ প্যাকেজে গঙ্গাচড়ার তিনটি স্থানে মোট ১ হাজার ৫০০ মিটার রাস্তা নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ৬১৩ টাকা।তবে প্রশ্ন উঠেছে কোটি টাকার প্রকল্পে যদি ইটের মান যাচাইয়ের রিপোর্টই না থাকে, তাহলে কোন ভিত্তিতে চলছে নির্মাণকাজ?
শাহ পাড়া এলাকার শরিফুল ইসলাম কাল্টু,মফিজার রহমান, সাহেব আলী, উত্তর পানাপুকুর এলাকার, জাহানুর রহমান,জীবন হোসাইন বলেন রাস্তার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এখানে উপজেলা প্রকল্প প্রকাশন কর্মকর্তার যোগসাজসে ঠিকাদার নিম্নমানের ইট,পরিমানে কম ভভিটি বালু ব্যবহার,করছে, আমরা রাস্তার কাজে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করিম নিম্নমানের ইট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে ওই দিয়ে রাস্তার কাজ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইটের ল্যাব টেস্ট বিষয় জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, ইট পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট ছাড়াও কাজ করা যাবে।অন্যদিকে একই বিষয়ে রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরও) গোলাম কিবরিয়ার বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেন, ইটের টেস্ট রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত রাস্তার কাজ করা যাবে না।
একই প্রকল্পে দুই দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বলেন, রাস্তার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটির কাজ গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি।স্থানীয়দের প্রশ্ন সময়ও গেল, মানও নেই; তাহলে দায় নেবে কে?