নারায়ণগঞ্জের বন্দরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নারীসহ একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. ওয়াছ উদ্দিন।
সোমবার (২৭ জুলাই) কুড়িপাড়া এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. ওয়াছ উদ্দিন অভিযোগ করেন, পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আবু হানিফ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে।
তিনি জানান, ১০০ নম্বর দাগে মোট ১৫৪ শতাংশ জমির মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে পৃথক মালিকানা ও নামজারি রয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মাপঝোপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টরা কলমি নকশায় স্বাক্ষর করে সীমানা মেনে নেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে পরবর্তীতে আবু হানিফ গং সীমানা নির্ধারণের খুঁটি তুলে ফেলে এবং তার কাছে ১০ লাখ টাকা ও ১০ শতাংশ জমি দাবি করে বলে অভিযোগ করেন ওয়াছ উদ্দিন। দাবি পূরণ না করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় তিনি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, নারায়ণগঞ্জে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান দেউলি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা আক্তার।
ওয়াছ উদ্দিনের অভিযোগ, গত ১৯ জুলাই ২০২৬ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ফারজানা আক্তার ঘটনাস্থলে সরেজমিনে তদন্তে গেলে তদন্ত চলাকালে দেলোয়ার ও আবু হানিফের লোকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে নারীসহ একই পরিবারের তিনজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ওয়াছ উদ্দিনের স্ত্রী সরুফা আক্তার আসমা ২০ জুলাই বন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে বন্দর থানায় মামলা নং ৩৫ (৭) ২৬ দায়ের করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
তবে মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা। অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ করেন তারা। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন ওয়াছ উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করছি।’