রংপুর মেডিকেলে সেবার মানোন্নয়নে ত্রাণ মন্ত্রীর নির্দেশ: বাড়ছে আইসিইউ বেড, বন্ধ হচ্ছে সিন্ডিকেট

আসাদুজ্জামান টিটু,রংপুর:

Date: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
news-banner
জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে সরকার অধিক বরাদ্দ রেখেছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি। তিনি বলেন, অনেক জেলায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালের অবকাঠামো তৈরি হলেও তা জনবলের অভাবে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সরকারি উদ্যোগেই দ্রুত জনবল নিয়োগের চেষ্টা চলছে। একই সাথে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) ও হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধি, দালাল-সিন্ডিকেট চক্র নির্মূল এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা ফেরাতে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির দীর্ঘ প্রায় ৪ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি হাসপাতালে এসে পৌঁছান। বিকেল বেলা তিনি রংপুর নগরীর জেলা খাল ও কেডি খাল পরিদর্শন করেন।সংবাদ সম্মেলনে ও আলোচনা সভায় মন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গের দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাস্থল এই হাসপাতালে বিগত ১৭ বছরের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা দূর করে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, অ্যানেস্থেসিয়ার সংকটের কারণে অপারেশন ব্যাহত হওয়া ও রোগীদের অকালে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হওয়ার ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং ২৪ ঘণ্টা সেবা চালুর কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে বিদ্যমান ১০টি আইসিইউ শয্যার সাথে আরও ১০টি যুক্ত করে মোট ২০টি বেডে পূর্ণাঙ্গ ইউনিট চালু করা হবে। এছাড়া রোগীদের স্বজনদের সুবিধার কথা ভেবে প্রতিটি কেবিনে অন্তত একজন অ্যাটেনডেন্টের থাকার সুবিধা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, ক্যাম্পাস থেকে চুরি, ছিনতাই ও দালাল চক্র রোধে আগামী এক মাসের মধ্যে পুরো হাসপাতাল সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আলো জ্বালিয়ে ক্যাম্পাসের অন্ধকার দূর করা হবে। একই সাথে নিরাপত্তার স্বার্থে সীমানা প্রাচীর ভেঙে গড়ে তোলা অবৈধ পকেট গেটগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত ১২৪ জন জনবল পর্যাপ্ত না হওয়ায় রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, রংপুর-৩ আসনের এমপি এবং স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতায় আরও ৫০ জন নতুন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিটি কর্মচারীকে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত পোশাক ও পরিচয়পত্র পরিধান করতে হবে। এছাড়া ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ইতোমধ্যে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়েছে।হাসপাতালের মৃতদেহ ও রোগী বহনে সক্রিয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সব অ্যাম্বুলেন্সকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অধীনে তালিকাভুক্ত হতে হবে। পার মাইলেজ (প্রতি মাইল) হিসেবে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে এবং চালানের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের যৌথ বৈঠকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ তলা ভবনে নির্মাণাধীন ৪৬০ শয্যার ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ বিভাগের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। হাসপাতালের অকেজো ও মেরামত অযোগ্য যন্ত্রপাতি দ্রুত নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। জলাবদ্ধতা দূর করা এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুত পদক্ষেপে নেবে রংপুর সিটি কর্পোরেশন। চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ডাক্তারদের সময়মতো ডিউটি পালন এবং নার্সদের রোগীদের প্রতি আরও ভালো ও আন্তরিক আচরণ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আলোচনা সভা ও পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রংপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল), সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সামসুজ্জামান সামু, রংপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম সাইফুল, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রূহুল আমীন, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন এবং রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক কাউন্সিলর লিটন পারভেজসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

Leave Your Comments