বাংলাদেশ পল্লি চিকিৎসক সমিতির উদ্যেগে বৃহত্তর ঢাকা জেলা সম্মেলন ২০২৬ ইং অনুষ্ঠিত। ১লা আগষ্ট শনিবার বেলা ১১ঘটিকার সময় ঢাকা জেলার শ্যামলী অ্যালায়েন্স হসপিটালের ৪র্থ তলার ট্রেনিং রুমে সম্মেলনের আলোচনা, পরিচয় পর্ব, কমিটির অনুমোদন সহ ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এম সবুজ আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যালায়েন্স হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড.মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি পল্লী চিকিৎসক সমিতির উপদেষ্টা মোঃ আনোয়ার কবির, সভাপতি এম সাইজ উদ্দিন আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক আলী আরশাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ শাহ্ আলম চিশতি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ রশিদ, সহ কোষাধ্যক্ষ শামছুল আলম বাবু, কার্যকরী সদস্য ও ফতুল্লা থানা সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন কাজল, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হায়দার, সদস্য আল-ফয়সাল রুমী, মোঃ দেলোয়ার হোসেন মৃধা, আমান উল্লাহ আমান, নরসিংদী জেলার সভাপতি জুলহাস, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর মোঃ দ্বীন ইসলাম, গাজীপুর জেলা সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহেল, সাভার জেলা সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুর রহমান, সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
এসময় প্রধান অতিথি ড.মাহফুজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পল্লী চিকিৎসকদের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, অনেক পরিবার কোনো সরকারি বা এমবিবিএস চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগেই তাদের শরণাপন্ন হন। তাদের উপস্থিতি ও অবদান বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পল্লী চিকিৎসকরা বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম স্তম্ভ। তাদের সহজলভ্যতা, কম খরচে চিকিৎসা এবং মানবিক সেবার কারণে তারা সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তবে ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি কমাতে তাদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সরকারি নজরদারি অপরিহার্য। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে যদি পল্লী চিকিৎসকদের দক্ষতা আরো বাড়ানো যায়, তাহলে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরো উন্নত হবে এবং সাধারণ জনগণের চিকিৎসা সেবা আরো সহজলভ্য হবে।
কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সবুজ আলী বলেন, বর্তমানে সরকার ফার্মাসিস্ট, প্যারামেডিকেল, ম্যাটস ও ড্রাগ লাইসেন্স প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পল্লী চিকিৎসকদের দক্ষ করে তুলতে কাজ করছে। তবে এই প্রশিক্ষণ আরো আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকারি নজরদারি ও সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার যদি যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ পল্লী চিকিৎসক তৈরি করতে পারে তবে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান আরো উন্নত হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি শাহ্ আলম চিশতি বলেন, গ্রামের চিকিৎসার ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। কয়েক দশক আগে, গ্রামে ডাক্তার পাওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। তখন গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি, যিনি চিকিৎসা সম্পর্কে কিছুটা জানতেন, তিনি স্থানীয় মানুষের জন্য চিকিৎসক হয়ে উঠতেন। তাদের কালো চামড়ার ব্যাগে থাকত থার্মোমিটার, প্রেসার মেশিন, অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ওষুধ ও বিভিন্ন ভেষজ চিকিৎসার সরঞ্জাম। অনেক সময় তিনি রোগীর আত্মীয়-স্বজনকে ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দিতেন, আর তারা সেই ওষুধ সংগ্রহ করে রোগীকে খাওয়াতেন। গ্রামাঞ্চলে এমন অনেক বাড়ি ছিল, যা ‘ডাক্তার বাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। এসব বাড়িতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোগীদের ভিড় লেগে থাকত। সাধারণত একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি সেবা দিতেন এবং ধীরে ধীরে তিনি গ্রামবাসীর কাছে একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক হয়ে উঠতেন। বর্তমানে এই পেশায় অনেকেই ওষুধের দোকান খুলে নিজেদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হওয়ায় এখন পল্লী চিকিৎসকরা আরো দক্ষ হয়ে উঠছেন। তবে এখনো গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, যার সমাধান করা জরুরি।
আলোচনা শেষে উপস্থিত সদস্যদের নিয়ে বৃহত্তর ঢাকা জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই সাথে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ জেলা ভিত্তিক সকল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট ক্রেস্ট তুলে দেন।