গঙ্গাচড়ায় হামলার মামলায় কৃষি কর্মচারী কারাগারে,আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ভুক্তভোগীর আবেদন

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

Date: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
news-banner
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মারধর, হত্যাচেষ্টা, চুরি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মচারীকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। 
তাঁর নাম মো. আরিফুল ইসলাম বাবু। তিনি রংপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মরত।
মামলার বাদী দক্ষিণ পানাপুকুর (ফকিরপাড়া) এলাকার মো. শাহিনুর রহমানের অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই দুপুরে জমি ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তাঁর ছোট ভাই মো. সেলিম হাসান ও বৃদ্ধা মায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় লাঠি, লোহার রড, কোদাল ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের মারধর করা হয়েছে।
আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে সেলিম হাসানের মাথায় কোদাল দিয়ে আঘাত করা হয়। তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং পকেট থেকে ১৭ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। একই ঘটনায় তাঁর বৃদ্ধা মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত, মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

এ ঘটনায় ২৭ জুলাই গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মো. আরিফুল ইসলাম বাবুসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন শাহিনুর রহমান। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৯, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৫৪, ৫০৬(২), ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটির নম্বর জিআর-২০০/২০২৬ এবং থানার মামলা নম্বর-৩৫।

বাদীর আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার আসামি মো. আরিফুল ইসলাম বাবু গত ২৭ সেপ্টেম্বর রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, মামলায় অভিযুক্ত সরকারি কর্মচারী আরিফুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ ও প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদী শাহিনুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপপরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরাবর পৃথক আবেদন করেছেন।
আবেদনের সঙ্গে মামলার এজাহার, এফআইআর, মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Leave Your Comments