রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জ্যোতি আক্তার (৩২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, জ্যোতিকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগও করেছে পরিবার।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের পাকুরিয়া শরীফ গ্রামের নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে জ্যোতি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশ।নিহত জ্যোতি আক্তার ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন মাস্টারের মেয়ে এবং মো. শহিদুল ইসলাম (লেবু মাস্টার)-এর স্ত্রী। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জ্যোতি আক্তারকে ঘরের ধর্নার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় জ্যোতিকে নির্যাতন করা হতো।
নিহতের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার বোনকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। গতকালও আমার বোন ফোন করে তাকে মারধরের কথা জানিয়েছিল। তার কথাবার্তায় আমি খুবই চিন্তিত হয়ে পড়ি। আজ জানতে পারলাম, তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আমার ধারণা, তাকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
নিহতের চাচি মোহসেনা বলেন, বিয়ের পর থেকেই জ্যোতির ওপর নির্যাতন করা হতো। সে বিভিন্ন সময় আমাদের ফোন করে নির্যাতনের কথা জানাত। আমরা তাকে বুঝিয়ে বলতাম, তাদের দুটি সন্তান আছে, সময়ের সঙ্গে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এভাবে তার মৃত্যু হবে, তা কখনো ভাবিনি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
আরেক চাচি অভিযোগ করে বলেন, ওদের বাড়িতে জ্যোতিকে নিয়ে সবসময় একটা ভয়ের পরিবেশ ছিল। এলাকার লোকজনও সহজে তাদের বাড়িতে যেতে পারত না। এখন জ্যোতিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। এদিকে ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী মো. শহিদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে পরিবারের করা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর ছবুর বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।