পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তথ্য চাইতে গিয়ে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার দুই সাংবাদিকের সাথে ফুলবাড়ী থানার ওসি অসৌজন্যমুলক আচরণ করেছেন । এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে ফুলবাড়ী প্রেসক্লাব, ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ এবং সাংবাদিক মহল।
তথ্য চাইতে যাওয়া সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক দেশ মা পত্রিকার উপ-সম্পাদক ও আজকের পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি এবং ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি রজব আলী।
রোববার ( ১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ফুলবাড়ী থানায় একটি আলোচিত হত্যা মামলার তথ্য সংগ্রহে গেলে ওই দুই সাংবাদিকের সাথে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম অসৌজন্যমুলক আচরণ করেন।
জানাগেছে, রোববার ( ১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় দৈনিক দেশ মা পত্রিকার উপ-সম্পাদক ও আজকের পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মেহেদী হাসান এবং দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি রজব আলী ফুলবাড়ী উপজেলার আলোচিত একটি হত্যা মামলার তথ্য নিতে যায় ফুলবাড়ী থানার ওসির রুমে। এসময় ওসি শহিদুল ইসলামের কাছে মামলার তথ্য চাইলে। তিনি বলেন , মামলার কাগজ আদালতে না পৌছানো পর্যন্ত তথ্য দেয়া যাবে না। এরপর অনুরোধ করে সাংবাদিকরা বলেন, প্রাথমিক তথ্য গুলো দিলে আমরা নিউজ পাঠাতে পারতাম। তিনি বলেন, সময় হলে তথ্য পাবেন, এখন দেয়া যাবে না। কখন পাওয়া যাবে ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বেশি কথা বলেন, বললাম তো জানাবো, সময় বলতে পারবো না। সাংবাদিক বলেন, আপনি তো তাহলে আমাদের সহযোগিতা করছেন না। এরপর ওসি হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে তার সামনের টেবিলে থাপ্পড় দিয়ে উঠে বলেন আপনাদের যদি ক্ষমতা থাকে তথ্য নেন, পারলে এসপিকে ফোন দেন বলে উঠে চলে যান।
বিষয়টি নিয়ে ফুুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু শহীদ বলেন, এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক । সাংবাদিকদের সাথে এমন আচরণ মেনে নেয়া যায় না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ’।
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ (পরিচালক আইন ও মানবাধিকার) মোহাম্মদ আলী আবির বলেন, পেশাগত কাজের জন্য তথ্য চাওয়া একজন সাংবাদিকের সাংবিধানিক ও পেশাগত অধিকার। কোনো দায়িত্বরত সরকারি কর্মকর্তা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধির কাছ থেকে এমন কুরুচিপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।
এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা আরও বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনা স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার একটি অপচেষ্টা বলে আমরা মনে করি।
'সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ'-এর পক্ষ থেকে ওই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ওসির বিরুদ্ধে দ্রুত দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে মুঠো ফোনে কথা বললে দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, পিপিএম বলেন, আমি ওসি সাহেবকে বলে দেব ভাই। তিনি বলেন ওসিদেরকে সবময় বলি সাংবাদিক মহদেয় যারা আসেন তাদের প্রাথমিক তথ্য গুলো দিয়ে দেবেন। কিন্তু উনি এমন কেন? বুঝলাম না। ঠিক আছে আমি সবাইকে বলে দেব যেন তারা আপনাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন।