উপকূলীয় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণ নিয়ে বাগেরহাটের শরণখোলায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ওজনে কম দেওয়া এবং প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে ‘অ-জেলে’দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় মৎস্যজীবীদের মধ্যে চরম দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।
এঘটনায় সোমবার (৪ মে) সকাল ১০টার দিকে রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে শতাধিক জেলে কার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এসময় তারা চাল বিতরণে অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে গতকাল রবিবারও অনেক মৎস্যজীবী জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হন।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শরণখোলা উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১২ হাজার ৪৫০ জন। অবরোধকালীন সমুদ্রগামী প্রতিটি জেলে পরিবারের জন্য মোট ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার, যা দুই কিস্তিতে (প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে) বিতরণের কথা রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ৪০ কেজির পরিবর্তে মাত্র ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সব থেকে বড় জালিয়াতি ধরা পড়েছে জেলে তালিকায়। নিবন্ধিত কার্ডের বড় একটি অংশই এমন ব্যক্তিদের দখলে যারা পেশায় জেলে নন। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার সুবাদে তারা এই সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন। অন্যদিকে বংশপরম্পরায় সাগরে মাছ ধরা প্রকৃত জেলেরা কার্ড না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ জাহিদ হাসান এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, “যদি কোনো অ-জেলে কার্ড ব্যবহার করে চাল উত্তোলন করে এবং প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হয়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই সরকারি সহায়তায় নয়ছয় বরদাস্ত করা হবে না।”
এবিষয়ে ৩ নং রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন মুক্তা পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।