দীর্ঘ জেল বন্দির পর, মুক্তির স্বাদ পেলেন ১০৫ বছর বয়সে রশিক চন্দ্র

সমরেশ রায় ও শম্পা দাস , কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ:

Date: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
news-banner
২৪ শে আগস্ট সোমবার, পশ্চিম নারায়ণ পুর গ্রামের বাসিন্দা ১০৫ বছর বয়সের রসিক চন্দ্র, দীর্ঘ জেল বন্দির পর অবশেষে পূর্ণাঙ্গ মুক্তি পেলেন, তার বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে বাকি সাজা মুকুব করে সুপ্রিম কোর্ট।

খুশির হাওয়া পরিবারের, জানা গেছে রসিক চন্দ্র মন্ডল মালদার মানিকচকের পশ্চিম নারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা, ১৯৮৮ সালে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে নিজের ভাই সুরেশ মন্ডলকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করে রসিক মন্ডলকে। 

সেই মামলায় ১৯৯৪ সালে তাকে দশটি সাব্যস্ত করে  যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, তখন তাহার বয়স ছিলো ৭৪ বছর।

দীর্ঘজেল খাটার পর ২০১৮ সালে মুক্তির জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দারত্ব হন তিনি। কিন্তু সেখানে সুফল মেলেনি, এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রসিক মন্ডল। শীর্ষ আদালত তার সাজা বাতিল করেননি, ফলে তার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। 

২০২০ সালে, 99 বছর বয়সে আগাম মুক্তির আবেদন করেন, আবেদনের তাঁর বার্ধক্য এবং বয়স জনিত নানা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। 
২০২১ সালের মে মাসে ,এই আবেদনের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে বিষয়টি জানতে চান সুপ্রিম কোর্ট। মামলাটি চলতে থাকে দীর্ঘদিন। এরপর ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে শীর্ষ আদালত তাকে অন্তর্বতী জামিন বা প্যারোলে মুক্তি নির্দেশ দেয়। সেই সময় থেকেই তিনি জেলের বাইরে ছিলেন। 

গত শুক্রবার তিনি বিচারপতির বেঞ্চ মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে ,আদালত জানায় রসিকচন্দ্রের বয়স বিবেচনা করে তার যাবজ্জীবন সাজার বাকি সময়টুকু আর ভোগ করতে হবে না ,প্রায় চার দশক ধরে চলা এই মামলায় শেষ পর্যন্ত জেল থেকে মুক্তি মিলল রশিদ চন্দ্রের, জীবনের বাকি দিনগুলি এবার পরিবারের সঙ্গে নিজের ইচ্ছে মত কাটানোর সুযোগ পেলো শতায়ু এই সাজা প্রাপ্ত আসামি।

তবে স্মৃতিশক্তি আজ ক্ষীন হয়ে এসেছে, ভালো করে কথাও বলতে পারেনা রসিক চন্দ্র। তবুও বাড়ির মানুষকে ফিরে পেয়ে পরিবারের মনে একটু হাসি ফুটেছে। কাছে পেয়েছে তাদের পরিবারের লোককে।

Leave Your Comments